Home » বাইকিং টিপস » বাইক চালিয়ে যেভাবে উপার্জন করবেন

বাইক চালিয়ে যেভাবে উপার্জন করবেন

 

মোটরসাইকেল প্রিলেন্সিং বা রাইড শেয়ারিং:

শিক্ষার্থী চাকুরিজীবি বেকার কিংবা বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের জন্য বাংলাদেশে অর্থ উপার্যনের একটা দারুন সুযোগ। বেকার সমস্যায় জর্জরীত এই দেশে এ যেন দারুন এক সম্ভাবনার দুয়ার। উন্নয়নশীল এ দেশে প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় বাড়ছে না আশানুরুপ কর্মসংস্থান। ফলে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এদের মধ্যে বেকারের সংখ্যাই ২৬ লাখ ৮০ হাজার। এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এক্ষেত্রে দেখাযায় এক বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৮০ হাজার। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। অর্থাৎ মোট বেকারত্বের ১১ দশমিক ২ শতাংশই উচ্চ শিক্ষিত। এদের মধ্যেই একটা বিরাট অংশ হচ্ছে তারা,যারা পাচ্ছে না উপযুক্ত কোন চাকুরী আবার লজ্জা কিংবা সংকোচেও পারছেনা শ্রমিক হিসেবে কায়ীকশ্রমের কোনকাজ করতে। তাদের জন্য অনেকটা আর্শীবাদ হয়ে এসেছে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল প্রিলেন্সিং বা রাইড শেয়ারিং।

এ পেশায় আশার পূর্বে আপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কিংবা সরঞ্জামাদি:

    •   একটি বাইক বা মোটরসাইকেল (মোটামুটি মানের হলেই চলবে, তবে ফিট হতে হবে)।
    •   মোটরসাইকেলের হালনাগাদ লাইসেন্স।
    •   মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স।
    •   ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি (হেলমেট, সেইফটি বুট, চসমা, উপযুক্ত পোশাক)।
    •   একটি স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেটের অতি সাধারণ মৌলিক ব্যবহার।
    •   বাইকের নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি (ভালো মানের লক)।
    •   পরিস্থিতি অনুযায়ী বাইক চালনায় দক্ষ।

কোন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য উপযুক্ত ?

কলেজ অথবা ইউনির্ভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থী: বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থীরই মোটরসাইকেল রয়েছে, উপরে উল্লেখিত যথাযথ প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি থাকলে সহজেই শিক্ষার্থীরা তাদের খন্ডকালিন রাইড শেয়ার করে কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারে। যা তার ব্যাক্তিগত এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

চাকুরিজীবি: এমন অনেক চুকুরীজীবি রয়েছেন যারা তাদের অফিসে যাতায়াত বা অন্যান্য কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তারাও ইচ্ছা করলে খন্ডকালিন সময়ে বা যাত্রাপথে তাদের রাইড শেয়ার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা উল্লেখিত বিধিমোতাবেক হতে হবে।

যাদের কোন কর্ম নেই (বেকার) : যারা এখনো বেকার রয়েছেন বা এখনো কোন উপযুক্ত কর্ম পান নি, তাদের জন্য এটি বিরাট আর্শীবাদ। সল্প পূঁজিতেই যেমন, নতুন কিংবা পুরাতন মোটরসাইকেল ও একটি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন এই সম্মানজনক পেশাটি। ধরুন আপনি যদি নতুন মোটরসাইকেল দিয়ে শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। আর যদি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে গুরু করতে চান তাহলে খরচ আরো কমে যাবে।

নানান শ্রেনী পেশার মানুষ: এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তারা ইচ্ছা করলে সল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের রাইড শেয়ার করতে পারেন।

কিভাবে এবং কোন কোম্পানির সাথে যুক্ত হবেন?

বাংলাদেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি মোবাইলফোন এপ্লিকেশন ভিত্তিক এ ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে, তাদের মধ্যে Uber, Pathao, Sohoz, Let’s Go, Ezzyr, Bahon, Dako Ride, Dhaka Moto ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পছন্দ মতো উল্লেখিত যে কোনটির মাধ্যমেই শুরু করতে পারেন। সবগুলো কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন প্রকৃয়াও প্রায় একই। উল্লেখিত কোম্পানির এপ্লিকেশ ইনস্টল করে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে একজন সার্ভিস প্রভাইডর হিসেবে। এক্ষেত্রে কিছু কিছু কোম্পানি বাইক বা মোটরসাইকেলের ফিটনেস, লাইসেন্স, এবং অন্যান্য বিষয়াদি যাচাই করে থাকে। কেবলমাত্র উত্তির্ণদেরকেই তারা তাদের সার্ভিস প্রভাইডর হিসেবে গ্রহন করে।

ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা : মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং এর ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা বার বারই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এটি কি আধৌ নিরাপদ রাইডিং? এ নিয়ে নানা মহলের নানা রকম অভিব্যাক্তি রয়েছে। রয়েছে নানা অনিয়ম ও অনিরাপদ রাইডিং এর গুঞ্জনও। যাইহোক সবরকম গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে বাংলাদশে সরকার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার গেজেট জারি করে এবং ১৫ জানুয়ারি রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশ সরকার কতৃক রাইড শেয়ারিং নীতিমালা (কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য)

  •   কোম্পানিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরীটি (বিআরটিএ) থেকে তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে।
  •   অ্যাপসের মালিককে টিআইএনধারী হতে হবে এবং নিয়মিত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। আর কোম্পানি হলে জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে।
  •   নিজস্ব অফিস থাকতে হবে।
  •   ঢাকায় সেবা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০০, চট্টগ্রামে ৫০টি এবং অন্য জেলা শহরে ২০টি গাড়ি থাকতে হবে।
  •   গাড়িগুলোর বিআরটিএ থেকে ট্যাক্স পরিশোধ ও রুট পারমিট আপডেট থাকতে হবে।
  •   মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি থাকতে হবে।
  •   স্ট্যান্ডছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যাবে না।
  •   বিআরটিএর ওয়েবসাইটে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মালিক ও চালকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে।
  •   তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের সঙ্গে এক লাখ টাকাসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে। তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। পরে এটি নবায়ন করতে হবে। নবায়ন ফি হবে ১০ হাজার টাকা।
  •   মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে।
  •   শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তালিকাভুক্তির সনদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে।
  •   এই শর্তগুলো মোটরসাইকেল ও মোটরযান উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Comments

comments

error: Content is protected !!