Home » মালিকানা রিভিউ » Prince Jacky – একটি উত্তেজনামূলক ট্যুর এর আত্মকাহিনী

Prince Jacky – একটি উত্তেজনামূলক ট্যুর এর আত্মকাহিনী

 

একটি উত্তেজনামূলক ট্যুর এর আত্মকাহিনী 
 সাজেক যাওয়ার তৃষ্ণাঃ

ঈদ এর পরের দিন(৩ সেপ্টেম্বর,২০১৭) রাত প্রায় ১১টা। বিছানায় শুয়ে ফেইসবুক চালাচ্ছি। কেন জানি হঠাৎ করেই মাথায় সাজেক যাওয়ার ভূত চেপে বসলো ?। কিচ্ছু ভালো লাগছিল না ?। মনের মধ্যে কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা অনুভব করছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল যেভাবেই হোক আমাকে এখনি সাজেক যেতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আমি ট্যুর এর জন্য একদম ই প্রস্তুত ছিলাম না। রাতের খাবার না খেয়েই তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বগুড়া থেকে দ্বিতীয় বারের মত সাজেক এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই?। তখন ঘড়িতে সময় রাত প্রায় ১২ টা। সারারাত একা একা Bike Ride করি। রাস্তা একদম ফাঁকা ছিল। হাতে গোনা কয়েকটা বাস-ট্রাক ছিল। মাঝে মাঝে ডাকাতের/ছিনতাইকারির ভয় ও করছিল?। পরে অবশ্য ভয়টা কেটে গিয়েছিল। রাতে একা একা Bike Ride করে অস্থির মজা পাইছি?। রাতে একা বাইক রাইড করার Feelings টাই অন্যরকম। বরাবরের মতই ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ে তে বাইক চালিয়ে সবচেয়ে বেশি মজা পাইছি। আমার খুব প্রিয় একটা হাইওয়ে?। আমার বাইকে ঘড়ির টাইম যখন সকাল ৬:১৮ মিনিট, তখন আমি বারৈয়ার হাট ক্রস করে খাগড়াছড়ির পথে। সকালে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি আঁকাবাকা পথে বাইক রাইড করার ফিলিংস্ টা বলে বোঝানো সম্ভব না। চারিদিকে ঘন ঘন গাছপালা, উঁচু উঁচু পাহাড়, ঠান্ডা হিমেল হাওয়া , হালকা কুয়াশা, সব মিলিয়ে সে এক অন্যরকম অনুভূতি?। সত্যি বলতে অামার আমার একটু শীত শীত করছিল ?। এক কথায় অসাধারণ। সারারাত বাইক রাইড করার পরও চোখে একটুও ঘুম ছিল না। পাহাড়ি রাস্তায় রাইড করতে করতে চা বাগানের সামনে দেখা হয়ে গেল প্রিয় Explorers MC গ্রুপ এর সাথে?। অত:পর গ্রুপ এর সাথে রাইড করে সকাল ১০:৩০মিনিট এ বাঘাইছড়ি চেকপোস্ট এ পৌছাই। বাইক চেকিং শেষ করে সকাল ১১টায় সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সাজেকের রোডটা আমার অনেক প্রিয় রোডগুলোর মধ্যে একটা। যতদূর চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়?। বাইকে পাহাড়ের সেই Adventure রোলার কোস্টার রাইড করতে করতে অবশেষে দুপুর ১২টা ৩০মিনিট এ প্রায় ১২ ঘন্টা ৩০মিনিট Bike Ride করার পর সাজেক পৌঁছাই?। Then হোটেল এ চেক ইন করে একটু ফ্রেস হয়ে রেস্ট না নিয়েই ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। আমার চোখে মুখে এতটুকুও ক্লান্তির ছাপ ছিল না। এই ঠাডা গরমের দিনে সাজেকের রাতের ঠান্ডায় গায়ে কম্বল মুরি দিয়ে ঘুমানোর মজাই আলাদা। মনেই হচ্ছিল এখন শীতকাল ?। সাজেকে ভোরের সূর্যোদয় না দেখতে পারলে জীবন ই বৃথা?। সাজেকের ভোর এক কথায় অস্থির। ভোরে পুরো সাজেক মেঘ এ ঢাকা থাকে?। সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি?। আপনি মেঘ দের সাথে লুকোচুরি খেলতে পারবেন। সেই Feelings বলে বোঝানো সম্ভব না। সাজেক এ ১ রাত থাকার পরের দিন(৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০:৩০ এ বগুড়ার উদ্দেশ্য রওনা দেই।খাগড়াছড়ি পৌছাইতে পৌছাইতে দুপুর হয়ে যায়। then খাগড়াছড়িতেই Lunch সেরে ফেলি। খাগড়াছড়িতে আমার আংকেল থাকেন।(তিনি খাগড়াছড়ি বিজিবি ক্যাম্প এর SM.) তাই ভাবলাম খাগড়াছড়িতে যখন এসেই পড়েছি, একবার আংকেল এর সাথে দেখা করে যাই। then আংকেল কে ফোন দিয়ে বিজিবি ক্যাম্প এ গিয়ে দেখা করি। আংকেল তো আমাকে দেখে অনেক খুশি। আর আমিও খুশি। বাইক নিয়ে বগুড়া থেকে সাজেক আসার গল্প শুনে আংকেল এবং বিজিবি ক্যাম্প এর লোকেরা সবাই অবাক। গল্প করতে করতে কখন যে বিকাল হয়ে গেল টের ই পেলাম না। আংকেল কে বললাম আমি এখনি বগুড়া Back করবো। But কিছুতেই যেতে দিতে চাইলো না। তাই বাধ্য হয়েই বিজিবি ক্যাম্প এ একরাত থেকে পরের দিন(৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে বাসায় আসি। এই Solo Tour টা অনেক Enjoy করেছি। এই ছিল আমার উত্তেজনামূলক ট্যুর এর আত্মকাহিনী ?। বগুড়া থেকে সাজেক এর দূরত্ব প্রায় ৫৩০ কি.মি.।

যদিও আমি ভালো লিখতে পারি না। যতটুকু পারি ভালোভাবে লিখার চেষ্টা করেছি।
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। 
ধন্যবাদ। 

লেখক: Prince Jacky

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!